দ্য সেভেন হ্যাবিটস্ অব হাইলি ইফেকটিভ পিপল বইয়ের সারসংক্ষেপ ও রিভিউ
স্টিভেন কোভি-র লেখা "দ্য সেভেন হ্যাবিটস্ অব হাইলি ইফেকটিভ পিপল" বইটি ব্যক্তিগত এবং পেশাগত সাফল্যের জন্য একটি যুগান্তকারী গাইড হিসেবে পরিচিত। ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত এই বইটি লক্ষ লক্ষ মানুষকে তাদের জীবন ও কর্ম পদ্ধতি নতুন করে সাজাতে সাহায্য করেছে। এটি শুধু একটি বই নয়, বরং নীতি-ভিত্তিক জীবনযাপনের একটি গভীর দর্শন। বইটিতে মূলত সাতটি অভ্যাসের কথা বলা হয়েছে, যা আত্ম-উন্নয়ন এবং অন্যের সাথে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য অপরিহার্য। এর সারসংক্ষেপ এবং বিশ্লেষণ আজকের দিনেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
এই বইটির মূল ধারণা হলো, আমাদের চারপাশের বিশ্বকে আমরা যেভাবে দেখি (প্যারাডাইম), তা আমাদের আচরণ ও ফলাফলের ওপর গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। কোভি বিশ্বাস করতেন, দীর্ঘমেয়াদী সফলতা অর্জনের জন্য আমাদের চরিত্রের মৌলিক নীতিগুলোর (যেমন সততা, ন্যায়পরায়ণতা, দায়িত্বশীলতা) ওপর ভিত্তি করে জীবনযাপন করা জরুরি। এই সাতটি অভ্যাস মূলত এই নীতিগুলোকেই বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার একটি পদ্ধতি।
স্টিফেন কোভি কে ছিলেন?
স্টিফেন আর. কোভি (Stephen R. Covey) একজন আমেরিকান শিক্ষাবিদ, লেখক এবং ব্যবসায়ী ছিলেন। ১৯৩২ সালে জন্মগ্রহণকারী কোভি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ এবং ব্রিগহাম ইয়ং ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তার কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে নেতৃত্ব এবং ব্যক্তিগত কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা ও শিক্ষাদান করে। তিনি ফ্র্যাঙ্কলিন কোভি নামক একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শদাতা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন, যা নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
"দ্য সেভেন হ্যাবিটস্ অব হাইলি ইফেকটিভ পিপল" তার সবচেয়ে পরিচিত এবং প্রভাবশালী কাজ। এই বইটি তাকে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি এনে দেয় এবং অসংখ্য মানুষের কাছে তাকে ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং নেতৃত্বের একজন প্রামাণ্য ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। কোভি বিশ্বাস করতেন যে সত্যিকারের সফলতা আসে ভিতরের মূল্যবোধ এবং নীতিগুলো মেনে চলার মাধ্যমে, বাহ্যিক চাকচিক্য বা দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে নয়। তার লেখা আরও অনেক বই রয়েছে, তবে "দ্য সেভেন হ্যাবিটস্" আজও তার শ্রেষ্ঠ কীর্তি হিসেবে বিবেচিত।
বইটির মূল দর্শন: নীতি ও অভ্যাস
"দ্য সেভেন হ্যাবিটস্ অব হাইলি ইফেকটিভ পিপল" বইটির গভীরে রয়েছে একটি শক্তিশালী দর্শন: আমাদের জীবনকে বাহ্যিক চাপ বা পরিস্থিতির উপর ছেড়ে না দিয়ে, বরং সুনির্দিষ্ট নীতি এবং অভ্যাসের মাধ্যমে গড়ে তোলা। কোভি মনে করতেন, দ্রুত সাফল্যের পেছনে ছোটার বদলে, আমাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতা এবং ব্যক্তিগত চরিত্র গঠনের দিকে। তিনি দুটি মূল ধারণার কথা বলেছেন: 'প্যারাডাইম' এবং 'নীতি'।
প্যারাডাইম (Paradigm): কোভি বোঝাতে চেয়েছেন, প্যারাডাইম হলো কোনো কিছু দেখার বা বোঝার বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি বা মানসিক মডেল। এটি অনেকটা মানচিত্রের মতো। আপনার মানচিত্র যদি ভুল হয়, তাহলে আপনি যত চেষ্টাই করুন না কেন, সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন না। একইভাবে, আমাদের নিজস্ব প্যারাডাইম আমাদের চিন্তা, আচরণ এবং সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। বইটি পাঠককে তাদের নিজস্ব প্যারাডাইমগুলো পরীক্ষা করতে উৎসাহিত করে, বিশেষত যখন তারা মনে করে যে তাদের বর্তমান পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। পুরনো, অকার্যকর দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে একটি নতুন, নীতি-ভিত্তিক প্যারাডাইম গ্রহণ করা হলো কার্যকারিতার প্রথম ধাপ।
নীতি (Principles): নীতির ধারণাটি কোভি-র দর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করতেন যে কিছু শাশ্বত, সার্বজনীন নীতি রয়েছে যা প্রাকৃতিক নিয়মের মতো কাজ করে। উদাহরণস্বরূপ, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, আত্ম-নিয়ন্ত্রণ, সেবা, ধৈর্য এবং পরিশ্রম, এগুলো সব প্রাকৃতিক নীতি। এগুলো কোনো সংস্কৃতি বা সময়ের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং সব সমাজে এবং সব পরিস্থিতিতেই কার্যকর। কোভি যুক্তি দেখিয়েছেন যে সত্যিকারের এবং দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য আসে এই নীতিগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে জীবনযাপন করার মাধ্যমে। যখন আমরা এই নীতিগুলোর বিরুদ্ধে কাজ করি, তখন আমরা অনিবার্যভাবে নেতিবাচক ফলাফল ভোগ করি। বইটির সাতটি অভ্যাস আসলে এই নীতিগুলোকেই আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করার ব্যবহারিক উপায়।
এই নীতির উপর ভিত্তি করে কোভি 'কার্যকারিতা'কে শুধুমাত্র লক্ষ্য অর্জন হিসেবে দেখেননি, বরং লক্ষ্য অর্জনের সাথে সাথে সেই সম্পদকে রক্ষা করার ক্ষমতা হিসেবেও দেখেছেন। তিনি একে P/PC ব্যালেন্স (Production/Production Capability Balance) হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, একটি ডিম পাড়া হাঁস যদি প্রতিদিন ডিম দেয় (P), তাহলে সেই হাঁসকে সুস্থ রাখতে যত্ন নেওয়া জরুরি (PC)। যদি আপনি শুধু ডিমের দিকে মনোযোগ দেন এবং হাঁসের যত্ন না নেন, তাহলে একসময় হাঁসটি অসুস্থ হয়ে পড়বে এবং আর ডিম দেবে না। ব্যক্তিগত জীবনে এর অর্থ হলো, আপনার লক্ষ্য অর্জনের জন্য যেমন কাজ করা উচিত, তেমনি আপনার ব্যক্তিগত সুস্থতা, সম্পর্ক এবং দক্ষতা বাড়ানোর দিকেও মনোযোগ দেওয়া উচিত। এই P/PC ব্যালেন্স বজায় রাখা কার্যকারিতার চাবিকাঠি।
সাতটি অভ্যাসের সারসংক্ষেপ: ব্যক্তিগত জয় (Private Victory)
স্টিফেন কোভি সাতটি অভ্যাসকে তিনটি প্রধান ধাপে ভাগ করেছেন। প্রথম তিনটি অভ্যাসকে তিনি "ব্যক্তিগত জয়" (Private Victory) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই অভ্যাসগুলো মূলত আমাদের নিজেদের উপর নিয়ন্ত্রণ, আত্ম-শৃঙ্খলা এবং অভ্যন্তরীণ শক্তি গড়ে তোলার উপর জোর দেয়। ব্যক্তিগত জয় অর্জন করা হলো সম্মিলিত জয় (Public Victory) অর্জনের ভিত্তি।
অভ্যাস ১: প্রতিক্রিয়াশীল না হয়ে সক্রিয় হোন (Be Proactive)
এটি ব্যক্তিগত কার্যকারিতার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। প্রতিক্রিয়াশীল হওয়ার অর্থ হলো বাহ্যিক ঘটনা বা পরিস্থিতির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়া। যেমন, আবহাওয়া খারাপ হলে আপনার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়, বা অন্যের সমালোচনার কারণে আপনি হতাশ হয়ে পড়েন। প্রতিক্রিয়াশীল ব্যক্তিরা তাদের চারপাশের পরিবেশ, পরিস্থিতি বা অন্য মানুষের আচরণের উপর তাদের সুখ বা অসন্তোষের দায়িত্ব চাপিয়ে দেন।
অন্যদিকে, সক্রিয় (Proactive) হওয়ার অর্থ হলো আপনার জীবনের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে নিজে নেওয়া। সক্রিয় ব্যক্তিরা বিশ্বাস করেন যে তাদের নিজেদের প্রতিক্রিয়া বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা আছে, পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেন। তারা তাদের আবেগ বা বাইরের অবস্থার দ্বারা পরিচালিত না হয়ে, বরং তাদের মূল্যবোধ এবং নীতি দ্বারা পরিচালিত হন। কোভি একটি 'প্রভাবের বৃত্ত' (Circle of Influence) এবং 'উদ্বেগের বৃত্ত' (Circle of Concern) এর কথা বলেছেন। উদ্বেগের বৃত্তে এমন বিষয়গুলো থাকে যা নিয়ে আমরা চিন্তিত কিন্তু যার উপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই (যেমন অর্থনীতি, রাজনীতি, অন্যের আচরণ)। প্রভাবের বৃত্তে থাকে এমন বিষয়গুলো যার উপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ আছে (যেমন আমাদের নিজস্ব মনোভাব, কাজ, প্রতিক্রিয়া)। সক্রিয় ব্যক্তিরা তাদের প্রভাবের বৃত্তের মধ্যে কাজ করেন, যা তাদের প্রভাবের বৃত্তকে ধীরে ধীরে বড় করে। প্রতিক্রিয়াশীল ব্যক্তিরা উদ্বেগের বৃত্তের দিকে মনোযোগ দেন, যা তাদের প্রভাবের বৃত্তকে ছোট করে ফেলে।
এই অভ্যাসটি আপনাকে শেখায় যে আপনি আপনার পরিস্থিতি তৈরি নাও করতে পারেন, তবে আপনি আপনার প্রতিক্রিয়ার স্রষ্টা। যেমন, আপনার চাকরি চলে গেলে একজন প্রতিক্রিয়াশীল ব্যক্তি ভাগ্যকে দোষ দেবেন এবং হতাশ হয়ে পড়বেন। কিন্তু একজন সক্রিয় ব্যক্তি পরিস্থিতিটিকে নতুন সুযোগ হিসেবে দেখবেন, দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করবেন এবং নতুন চাকরির খোঁজ করবেন। কোভি মনে করতেন, নিজের ইচ্ছাশক্তি এবং আত্ম-সচেতনতার মাধ্যমে আমরা যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারি।
এই অভ্যাসটি আমাদের শেখায় যে, নিজের জীবনের হাল নিজেকেই ধরতে হবে। এটি কেবল কর্মক্ষেত্রে নয়, বরং ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং আর্থিক পরিকল্পনাতেও কাজে লাগে। উদাহরণস্বরূপ, যখন আপনি নিজের আর্থিক ভবিষ্যৎ তৈরি করতে চান, তখন প্রতিক্রিয়াশীল না হয়ে সক্রিয় থাকতে হয়। এর মানে হলো, অপ্রত্যাশিত আর্থিক ধাক্কা এলে ভেঙে না পড়ে আগে থেকেই সঞ্চয় বা বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রস্তুতি নেওয়া।
অভ্যাস ২: শেষের কথা মাথায় রেখে শুরু করুন (Begin with the End in Mind)
এই অভ্যাসটি ব্যক্তিগত নেতৃত্ব এবং লক্ষ্যের স্পষ্টতা নিয়ে কাজ করে। এর অর্থ হলো, যেকোনো কাজ শুরু করার আগে আপনার চূড়ান্ত গন্তব্য বা ফলাফল কী হবে তা মানসিকভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া। কোভি দুটি সৃষ্টির কথা বলেছেন: প্রথম সৃষ্টি (mental creation) এবং দ্বিতীয় সৃষ্টি (physical creation)। যেকোনো কিছু বাস্তবে রূপ নেওয়ার আগে প্রথমে তা আমাদের মনে তৈরি হয়। যেমন, একটি বাড়ি তৈরির আগে স্থপতি তার নকশা তৈরি করেন, যা প্রথম সৃষ্টি। এরপর শ্রমিকরা সেই নকশা অনুযায়ী বাড়ি তৈরি করে, যা দ্বিতীয় সৃষ্টি।
আমাদের জীবনও অনেকটা এমনই। যদি আমরা নিজেদের জীবনকে সচেতনভাবে প্রথম সৃষ্টি না করি, তাহলে বাইরের পরিস্থিতি, অন্যান্য মানুষ বা পুরনো অভ্যাস আমাদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করবে। এই অভ্যাসটি আপনাকে আপনার জীবনের মিশন স্টেটমেন্ট তৈরি করতে উৎসাহিত করে, আপনার মূল্যবোধ, লক্ষ্য এবং আপনি কেমন মানুষ হতে চান তার একটি ব্যক্তিগত ঘোষণা। এটি আপনার জীবনের কম্পাস হিসেবে কাজ করে, যা আপনাকে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। আপনার জীবনের লক্ষ্য যদি পরিষ্কার থাকে, তাহলে আপনি এমন কাজ এড়িয়ে চলবেন যা আপনার চূড়ান্ত গন্তব্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি আপনার পরিবারে আরও বেশি ভালোবাসা এবং বোঝাপড়া দেখতে চান, তবে প্রতিটি মিথস্ক্রিয়াতে সেই লক্ষ্যটি মাথায় রাখুন। আপনি যদি একজন ভালো ছাত্র হতে চান, তবে প্রতিটি ক্লাস বা অ্যাসাইনমেন্টের সময় আপনার চূড়ান্ত একাডেমিক লক্ষ্যটি মনে রাখুন। এটি কেবল বড় বড় লক্ষ্যের জন্য নয়, বরং প্রতিটি ছোট প্রকল্প বা বৈঠকের জন্যও প্রযোজ্য।
এটি আমাদের শেখায় যে, আমরা কী অর্জন করতে চাই তা যদি স্পষ্ট না থাকে, তাহলে আমাদের সকল প্রচেষ্টা অর্থহীন হতে পারে। নিজের কর্মজীবন বা ব্যক্তিগত লক্ষ্য ঠিক করার সময় এই অভ্যাসটি খুব কার্যকর। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার জীবনের লক্ষ্য হয় আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন করা, তাহলে আপনার প্রতিটি আর্থিক সিদ্ধান্ত এই লক্ষ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে।
অভ্যাস ৩: গুরুত্বপূর্ণ কাজ আগে করুন (Put First Things First)
এটি ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনার অভ্যাস, যা অভ্যাস ১ (সক্রিয় হওয়া) এবং অভ্যাস ২ (শেষের কথা মাথায় রেখে শুরু করা) এর ব্যবহারিক প্রয়োগ। আপনি একবার আপনার মূল্যবোধ এবং লক্ষ্য নির্ধারণ করার পরে, এই অভ্যাসটি আপনাকে শেখায় কিভাবে সেগুলোকে আপনার দৈনন্দিন জীবনে অগ্রাধিকার দিতে হয়। কোভি এই অভ্যাসটি বোঝানোর জন্য একটি "সময় ব্যবস্থাপনা ম্যাট্রিক্স" ব্যবহার করেছেন, যা কাজগুলোকে তাদের 'গুরুত্ব' এবং 'জরুরি' হওয়ার উপর ভিত্তি করে চারটি ভাগে ভাগ করে:
- ১ নং চতুর্ভুজ: জরুরি এবং গুরুত্বপূর্ণ (যেমন: সংকট, ডেডলাইন-ভিত্তিক প্রকল্প)
- ২ নং চতুর্ভুজ: গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু জরুরি নয় (যেমন: পরিকল্পনা, সম্পর্ক গড়ে তোলা, নতুন সুযোগের সন্ধান, নিজেকে নতুন করে ধার দেওয়া)
- ৩ নং চতুর্ভুজ: জরুরি কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নয় (যেমন: কিছু ইমেল, কিছু মিটিং, অপ্রয়োজনীয় ফোন কল)
- ৪ নং চতুর্ভুজ: জরুরিও নয়, গুরুত্বপূর্ণও নয় (যেমন: সময় নষ্ট করা, তুচ্ছ কাজ)
কোভি বলেছেন, অত্যন্ত কার্যকর মানুষরা তাদের বেশিরভাগ সময় ২ নং চতুর্ভুজে ব্যয় করেন, অর্থাৎ, তারা গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু জরুরি নয় এমন কাজগুলো আগে করেন। এই কাজগুলো প্রতিরোধমূলক, পরিকল্পনা-ভিত্তিক এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে। যখন আপনি ২ নং চতুর্ভুজে বেশি সময় ব্যয় করেন, তখন ১ নং চতুর্ভুজের জরুরি কাজগুলো কমে যায়, কারণ আপনি সেগুলোর জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন।
এই অভ্যাসটি কেবল সময় ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়, বরং আপনার ব্যক্তিগত মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে আপনার কাজগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়। এটি আপনাকে 'না' বলতে শেখায় এমন সব কাজের প্রতি যা আপনার মূল্যবোধ বা লক্ষ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, যদিও সেগুলো জরুরি মনে হতে পারে। এটি আপনাকে নিজের জন্য সময় ও সম্পদ বরাদ্দ করার গুরুত্ব বোঝায়, যা আপনার ব্যক্তিগত ও পেশাগত বৃদ্ধিতে সহায়ক।
এই অভ্যাসটি শেখায় কিভাবে আমরা নিজেদের কাজগুলোকে গুরুত্ব এবং জরুরিতার ভিত্তিতে সাজাতে পারি। বিশেষ করে, যখন আপনি নিজের অর্থ সঞ্চয় বা বিনিয়োগের কথা ভাবেন, তখন নিজের জন্য সময় ও সম্পদ বরাদ্দ করার গুরুত্ব বুঝতে পারা খুব জরুরি। এটি আপনার দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করে।
সাতটি অভ্যাসের সারসংক্ষেপ: সম্মিলিত জয় (Public Victory)
ব্যক্তিগত জয় অর্জনের পর, পরবর্তী তিনটি অভ্যাস "সম্মিলিত জয়" (Public Victory) এর উপর জোর দেয়। এই অভ্যাসগুলো কার্যকর সম্পর্ক, সহযোগিতা এবং অন্যের সাথে সফল মিথস্ক্রিয়া গড়ে তোলার জন্য অপরিহার্য। কোভি বিশ্বাস করতেন, আপনি যদি প্রথমে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করতে না পারেন, তবে অন্যের সাথে দীর্ঘস্থায়ী এবং কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলা কঠিন।
অভ্যাস ৪: জিতুন-জিতুন মানসিকতা রাখুন (Think Win/Win)
এটি পারিপার্শ্বিক সম্পর্ক এবং সহযোগিতার জন্য একটি অপরিহার্য অভ্যাস। এর অর্থ হলো, আপনি যখন অন্যের সাথে কোনো চুক্তি বা সমস্যা সমাধানে যান, তখন এমন একটি সমাধান খোঁজা যেখানে উভয় পক্ষই বিজয়ী হয়। এটি কেবল একটি চুক্তি বা সমাধান নয়, বরং মানুষের মিথস্ক্রিয়ার একটি মানসিকতা বা দর্শন।
কোভি সম্পর্ক গড়ে তোলার ছয়টি প্যারামিটার নিয়ে আলোচনা করেছেন:
- Win/Win (জিতুন/জিতুন): উভয় পক্ষই সুবিধা পায় এবং সন্তুষ্ট থাকে। এটি দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের জন্য সবচেয়ে ভালো বিকল্প।
- Win/Lose (জিতুন/হারুন): একজন জেতে, অন্যজন হারে। এটি প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা থেকে আসে এবং প্রায়শই সম্পর্ক নষ্ট করে।
- Lose/Win (হারুন/জিতুন): একজন নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে অন্যের জয় নিশ্চিত করে। এটি সম্পর্কের ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে এবং আত্মসম্মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
- Lose/Lose (হারুন/হারুন): উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি প্রতিশোধ বা একগুঁয়ে মানসিকতা থেকে আসতে পারে।
- Win (শুধুই জিতুন): শুধুমাত্র নিজের জয়ের দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়, অন্যের ফলাফলের দিকে কোনো মনোযোগ দেওয়া হয় না।
- Win/Win or No Deal (জিতুন/জিতুন অথবা কোনো চুক্তি নয়): এটি সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প, কারণ যদি উভয় পক্ষই জিততে না পারে, তবে কোনো চুক্তি না করাই ভালো। এটি উচ্চ আস্থা এবং পারস্পরিক সম্মানের উপর নির্মিত হয়।
জিতুন-জিতুন মানসিকতার জন্য প্রয়োজন সাহস (নিজের পক্ষে দাঁড়ানো) এবং বিবেচনা (অন্যের প্রয়োজন বোঝা)। এটি কেবল ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে নয়, বরং পরিবার, বন্ধু এবং সহকর্মীদের সাথে আপনার দৈনন্দিন সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যখন আপনি জিতুন-জিতুন সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেন, তখন আপনি পারস্পরিক আস্থা এবং সম্মান গড়ে তোলেন, যা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী সহযোগিতার পথ খুলে দেয়।
এই অভ্যাসটি ব্যবসায়িক চুক্তি থেকে শুরু করে পারিবারিক সম্পর্ক পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে কার্যকর। এটি আমাদের শেখায় কিভাবে নিজের আর্থিক ভবিষ্যৎ তৈরি করার পাশাপাশি অন্যের স্বার্থও সুরক্ষিত রাখা যায়, যা দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক বা আর্থিক অংশীদারিত্বের জন্য খুবই জরুরি।
অভ্যাস ৫: আগে বুঝুন, তারপর বোঝান (Seek First to Understand, Then to Be Understood)
এটি কার্যকর যোগাযোগের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী অভ্যাসগুলোর মধ্যে একটি। বেশিরভাগ মানুষ অন্যের কথা শোনার সময় উত্তর দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে শোনে, বোঝার উদ্দেশ্য নিয়ে নয়। আমরা প্রায়শই আমাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা এবং দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে অন্যের কথা ফিল্টার করি, যার ফলে আসল বার্তাটি হারিয়ে যায়।
কোভি "সহানুভূতিশীল শ্রবণ" (Empathic Listening) এর উপর জোর দিয়েছেন। এর অর্থ হলো, অন্যের কথা শুধুমাত্র কান দিয়ে নয়, বরং চোখ এবং হৃদয় দিয়ে শোনা, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জিনিসগুলো দেখা, তাদের অনুভূতি বোঝা এবং তাদের ফ্রেম অফ রেফারেন্সের মধ্যে থেকে তাদের জগতকে অনুভব করা। এটি কেবল তাদের শব্দ শোনা নয়, বরং তাদের আবেগ, উদ্দেশ্য এবং অনুচ্চারিত বার্তাগুলোও বোঝা।
যখন আপনি প্রথমে সহানুভূতিশীলভাবে অন্যকে বুঝতে চেষ্টা করেন, তখন আপনি তাদের আস্থা অর্জন করেন। তারা অনুভব করে যে আপনি তাদের সম্মান করছেন এবং তাদের সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছেন। একবার আপনি তাদের সম্পূর্ণভাবে বুঝে গেলে, তাদের কাছে আপনার কথা পৌঁছানো অনেক সহজ হয়ে যায়। তখনই আপনি "বোঝানো" এর দ্বিতীয় ধাপে যেতে পারেন, যখন আপনি আপনার মতামত বা সমাধান পরিষ্কার এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে উপস্থাপন করেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি কমে এবং সমস্যা সমাধানের পথ সুগম হয়।
কার্যকর যোগাযোগ সব ধরনের সম্পর্কের ভিত্তি, হোক তা ব্যক্তিগত বা পেশাগত। এটি শেখায় যে, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা সমাধানের আগে পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পূর্ণভাবে বোঝা কতটা জরুরি। এটি অর্থের জন্য কাজ করার ধারণা পরিবর্তন বা যেকোনো জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সময় বিশেষভাবে সহায়ক।
অভ্যাস ৬: সমন্বিত উদ্যোগ নিন (Synergize)
সমন্বিত উদ্যোগ হলো অভ্যাস ৫ এর একটি প্রাকৃতিক ফলাফল। এটি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে দুটি বা তার বেশি মন একসাথে কাজ করে এমন একটি সমাধান তৈরি করে যা কোনো একক ব্যক্তি একা তৈরি করতে পারতো না। ১+১ = ৩ বা তারও বেশি, এটিই হলো সমন্বিত উদ্যোগের মূল ধারণা।
যখন বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ একসাথে কাজ করে এবং একে অপরের শক্তিগুলোকে একত্রিত করে, তখন তারা এমন একটি ফলাফল তৈরি করতে পারে যা প্রতিটি একক অংশের সমষ্টির চেয়েও বড় এবং ভালো। সমন্বিত উদ্যোগ মানে কেবল আপোস করা নয়, বরং নতুন এবং উন্নত সমাধান খুঁজে বের করা। এর জন্য প্রয়োজন হলো:
- ভিন্নতাকে মূল্য দেওয়া: ভিন্ন মতামত এবং দৃষ্টিভঙ্গিকে হুমকির পরিবর্তে সুযোগ হিসেবে দেখা।
- খোলামেলা মনোভাব: অন্যের ধারণা শুনতে এবং নিজের ধারণা পুনর্বিবেচনা করতে ইচ্ছুক হওয়া।
- আস্থা: দলের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা থাকা।
- সৃজনশীলতা: সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন এবং উদ্ভাবনী উপায় খুঁজতে প্রস্তুত থাকা।
উদাহরণস্বরূপ, একটি দল যেখানে সদস্যরা তাদের স্বতন্ত্র শক্তি এবং দুর্বলতা বুঝতে পারে এবং একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে, সেখানে সমন্বিত উদ্যোগের সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাদের আলোচনা কেবল আপোস বা জয়/হার নয়, বরং একটি তৃতীয় বিকল্প (third alternative) খুঁজে বের করা, যা উভয় পক্ষের সেরা দিকগুলোকে একত্রিত করে। কোভি বিশ্বাস করতেন, প্রকৃতিতে সমন্বিত উদ্যোগ বিদ্যমান; যখন দুটি গাছ একসাথে বেড়ে ওঠে, তখন তাদের শিকড় এমনভাবে মিশ্রিত হয় যা উভয়কে আরও ভালোভাবে বাড়তে সাহায্য করে। মানুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একই কথা সত্য।
দলবদ্ধ কাজ এবং যৌথ প্রকল্পগুলোতে এই অভ্যাসটি খুবই কার্যকর। যখন বিভিন্ন মানুষ একত্রিত হয়ে কাজ করে, তখন তারা এমন সমাধান খুঁজে পায় যা একা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। এটি ব্যক্তিগত উন্নয়নে সহায়ক বই পড়া এবং সেগুলোকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার ক্ষেত্রেও সহায়ক, যেখানে বিভিন্ন ধারণা একত্রিত হয়ে নতুন উপলব্ধি তৈরি করে।
সাতটি অভ্যাসের সারসংক্ষেপ: নবীকরণ (Renewal)
সাত নম্বর অভ্যাসটি প্রথম ছয়টি অভ্যাসকে পুনরুজ্জীবিত এবং শক্তিশালী করার উপর জোর দেয়। এটি ব্যক্তিগত বৃদ্ধির একটি চক্রীয় প্রক্রিয়া, যা প্রতিটি ব্যক্তিকে তাদের শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক এবং সামাজিক-আবেগিক মাত্রাগুলোকে নিয়মিতভাবে নবীকরণ করতে উৎসাহিত করে।
অভ্যাস ৭: নিজেকে নতুন করে ধার দিন (Sharpen the Saw)
এই অভ্যাসটি নিজেকে পুনরুজ্জীবিত করার এবং নিজের সক্ষমতা বাড়ানোর উপর জোর দেয়। কোভি একটি গল্প দিয়ে এর গুরুত্ব বোঝান: একজন কাঠুরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে করাত দিয়ে গাছ কাটছে, কিন্তু তার করাত ভোঁতা হয়ে যাওয়ায় সে দ্রুত কাজ করতে পারছে না। তাকে করাত ধার দিতে বলা হলে সে বলে, "আমার করাত ধার দেওয়ার সময় নেই, আমাকে গাছ কাটতে হবে!"
এই গল্পটি আমাদের জীবনেও প্রযোজ্য। আমরা প্রায়শই কাজ করতে এত ব্যস্ত থাকি যে নিজেদের যত্ন নিতে ভুলে যাই। কিন্তু নিজেদের নবীকরণ না করলে আমাদের কার্যকারিতা কমে যায়। অভ্যাস ৭ চারটি মাত্রায় নিজেদের যত্ন নেওয়ার কথা বলে:
- শারীরিক মাত্রা: নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট। এটি আমাদের শরীরের শক্তি এবং সহনশীলতা বাড়ায়।
- মানসিক মাত্রা: শেখার অভ্যাস গড়ে তোলা (বই পড়া, নতুন কিছু শেখা, লেখালেখি), বিশ্লেষণাত্মক চিন্তাভাবনা এবং সৃজনশীলতা চর্চা। এটি আমাদের মনকে তীক্ষ্ণ এবং প্রসারিত রাখে।
- আধ্যাত্মিক মাত্রা: মূল্যবোধ এবং নীতিগুলোর সাথে পুনরায় সংযোগ স্থাপন, মেডিটেশন, প্রকৃতিতে সময় কাটানো, ধর্মীয় চর্চা বা গভীর চিন্তা। এটি আমাদের জীবনের অর্থ এবং উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করে।
- সামাজিক-আবেগিক মাত্রা: অন্যের সাথে সহানুভূতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলা, অন্যের সেবা করা, অবদান রাখা এবং ব্যক্তিগত জয় ও সম্মিলিত জয়কে ভারসাম্যপূর্ণ রাখা। এটি আমাদের সামাজিক দক্ষতা এবং আবেগিক বুদ্ধিমত্তা বাড়ায়।
এই চারটি মাত্রায় নিয়মিত নিজেকে নবীকরণ করা আমাদের ব্যক্তিগত কার্যকারিতাকে বাড়ায় এবং প্রথম ছয়টি অভ্যাসকে আরও ভালোভাবে প্রয়োগ করতে সাহায্য করে। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া যা আমাদের জীবনকে ভারসাম্যপূর্ণ এবং ফলপ্রসূ রাখে। নিজেকে নতুন করে ধার দেওয়া কেবল বিশ্রামের বিষয় নয়, বরং এটি একটি সক্রিয় প্রক্রিয়া যা আমাদের বৃদ্ধি এবং উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
নিজেকে নতুন করে ধার দেওয়া বা শেখার উপর জোর দেওয়া, এই অভ্যাসটি ধারাবাহিক ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য খুব জরুরি। এটি শুধু শারীরিক বা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য নয়, বরং আর্থিক জ্ঞান এবং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্যও প্রযোজ্য।
বইটির গুরুত্ব এবং প্রভাব
"দ্য সেভেন হ্যাবিটস্ অব হাইলি ইফেকটিভ পিপল" বইটি প্রকাশনার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এটি শুধু একটি বেস্টসেলার বই নয়, বরং ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং নেতৃত্ব প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। এর গুরুত্ব কয়েকটি প্রধান দিক থেকে আলোচনা করা যায়:
- নীতি-ভিত্তিক পদ্ধতির পুনঃপ্রবর্তন: বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে যখন দ্রুত সাফল্যের জন্য কৌশলগত বা "শর্টকাট" পদ্ধতির জনপ্রিয়তা বাড়ছিল, তখন কোভি তার বইয়ে চরিত্র-ভিত্তিক, নীতি-ভিত্তিক পদ্ধতির উপর জোর দেন। তিনি দেখিয়েছেন যে দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য এবং কার্যকারিতা কেবল মূল্যবোধ এবং মৌলিক নীতিগুলো মেনে চলার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনেক পাঠককে একটি শক্তিশালী এবং টেকসই কাঠামো দিয়েছে।
- স্বচ্ছ এবং ব্যবহারিক ফ্রেমওয়ার্ক: বইটিতে উপস্থাপিত সাতটি অভ্যাস একটি সুস্পষ্ট, ধাপে ধাপে ব্যক্তিগত এবং সম্মিলিত কার্যকারিতা অর্জনের পথ দেখায়। এই অভ্যাসগুলো সহজে বোঝা যায় এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করা যায়, যা এর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ। 'প্রভাবের বৃত্ত', 'সময় ব্যবস্থাপনা ম্যাট্রিক্স', 'প/পিসি ব্যালেন্স' এর মতো ধারণাগুলো জটিল বিষয়কে সহজভাবে বুঝতে সাহায্য করেছে।
- নেতৃত্ব এবং ব্যবস্থাপনা জগতে প্রভাব: বইটি কেবল ব্যক্তি নয়, বরং অসংখ্য কর্পোরেশন, সরকারি সংস্থা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ এবং সংস্কৃতি পরিবর্তনের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। এর ধারণাগুলো কর্মচারী উন্নয়ন, দলবদ্ধ কাজ এবং সাংগঠনিক কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক প্রমাণিত হয়েছে।
- সার্বজনীন প্রাসঙ্গিকতা: বইয়ের নীতিগুলো সংস্কৃতি বা পেশা নির্বিশেষে সার্বজনীনভাবে প্রযোজ্য। এটি শিক্ষার্থী, পেশাজীবী, পিতামাতা এবং যেকোনো বয়সের মানুষের কাছে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। সম্পর্কের উন্নতি, সময় ব্যবস্থাপনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং মানসিক চাপ মোকাবিলার মতো বিষয়গুলো সবার জীবনেই জরুরি।
- গভীর ব্যক্তিগত রূপান্তর: অনেক পাঠক এই বইটি পড়ে তাদের জীবন, সম্পর্ক এবং কাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে গভীর পরিবর্তন এনেছেন বলে দাবি করেছেন। এটি শুধু আচরণ পরিবর্তনের উপর জোর দেয় না, বরং আমাদের অন্তর্নিহিত বিশ্বাস এবং মূল্যবোধকে চ্যালেঞ্জ করে একটি নতুন প্যারাডাইম গ্রহণ করতে সাহায্য করে।
স্টিফেন কোভি-র এই বইটি আত্ম-উন্নয়ন সাহিত্যের এক স্থায়ী অংশ হিসেবে থেকে যাবে। এর বার্তাগুলো আজও নতুন প্রজন্মের পাঠকদের কাছে প্রেরণা জুগিয়ে যাচ্ছে।
দ্য সেভেন হ্যাবিটস্ বইটির রিভিউ: কেন এটি আজও প্রাসঙ্গিক?
স্টিফেন কোভি-র "দ্য সেভেন হ্যাবিটস্ অব হাইলি ইফেকটিভ পিপল" বইটি প্রকাশের প্রায় সাড়ে তিন দশক পরেও কেন আজও বিশ্বজুড়ে আলোচিত এবং প্রাসঙ্গিক, তা পর্যালোচনা করা জরুরি। এর দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তার কারণগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে এর প্রকৃত মূল্য বোঝা যায়।
প্রথমত, বইটির দর্শন নীতি-ভিত্তিক, যা এটিকে কালের সীমানা অতিক্রম করতে সাহায্য করেছে। কোভি প্রচলিত "ব্যক্তিত্ব নীতি" (Personality Ethic) থেকে বেরিয়ে এসে "চরিত্র নীতি" (Character Ethic) এর উপর জোর দিয়েছিলেন। ফ্যাশন বা ট্রেন্ডের মতো ব্যক্তিত্ব নীতিগুলো সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু সততা, ন্যায়পরায়ণতা, দায়িত্বশীলতা, সহমর্মিতার মতো চরিত্র নীতিগুলো শাশ্বত। আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল জগতেও এই মৌলিক নীতিগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষ এখনও সত্য, বিশ্বাস এবং নির্ভরযোগ্যতা খোঁজ করে।
দ্বিতীয়ত, বইটির কাঠামোগত পদ্ধতি এটিকে অত্যন্ত কার্যকর করে তুলেছে। সাতটি অভ্যাসের বিন্যাস, ব্যক্তিগত জয় (সক্রিয় হওয়া, লক্ষ্য নির্ধারণ, অগ্রাধিকার দেওয়া), সম্মিলিত জয় (পারস্পরিক লাভ, বোঝাপড়া, সমন্বিত উদ্যোগ) এবং নবীকরণ, একটি লজিক্যাল এবং ধাপে ধাপে উন্নয়নের পথ দেখায়। এটি কেবল কিছু টিপস বা কৌশল নয়, বরং একটি সামগ্রিক জীবন দর্শন। পাঠক যখন প্রথম তিনটি অভ্যাস আয়ত্ত করে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করেন, তখন তারা পরের তিনটি অভ্যাস ব্যবহার করে অন্যের সাথে আরও কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রস্তুত হন। শেষ অভ্যাসটি এই সমস্ত কিছুকে সচল রাখার জন্য ক্রমাগত নবীকরণের গুরুত্ব তুলে ধরে। এই সমন্বিত কাঠামো যেকোনো জটিল সমস্যার জন্য একটি রোডম্যাপ হিসেবে কাজ করে।
তৃতীয়ত, কোভি-র গভীর অন্তর্দৃষ্টি এবং মানসিক মডেলগুলো এখনও শক্তিশালী। 'প্রভাবের বৃত্ত বনাম উদ্বেগের বৃত্ত', 'সময় ব্যবস্থাপনার চারটি চতুর্ভুজ', 'P/PC ব্যালেন্স' এবং 'সহানুভূতিশীল শ্রবণ' এর মতো ধারণাগুলো কেবল একাডেমিক নয়, বরং ব্যবহারিকভাবেও অত্যন্ত শক্তিশালী। এই মডেলগুলো মানুষকে তাদের চিন্তাভাবনার প্রক্রিয়া এবং আচরণের গভীর কারণগুলো বুঝতে সাহায্য করে। আজকের যুগে যখন তথ্য ওভারলোডের কারণে মানুষ প্রায়শই বিভ্রান্ত হয়, তখন এই সুস্পষ্ট মানসিক মডেলগুলো সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জীবনের অগ্রাধিকার নির্ধারণে সহায়ক হয়।
চতুর্থত, এটি সম্পর্কের উপর ব্যাপক জোর দেয়। ডিজিটাল যুগে মানুষ যত বেশি সংযুক্ত হচ্ছে, তত বেশি বিচ্ছিন্নও হচ্ছে। ব্যক্তিগত মিথস্ক্রিয়া এবং কার্যকর যোগাযোগের গুরুত্ব বাড়ছে। জিতুন-জিতুন মানসিকতা এবং আগে বোঝা, তারপর বোঝানোর অভ্যাসগুলো কেবলমাত্র কর্মক্ষেত্রে নয়, বরং পরিবার, বন্ধু এবং সামাজিক যোগাযোগেও গভীর এবং অর্থবহ সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য অপরিহার্য। এই অভ্যাসগুলো শেখায় কিভাবে আমরা একে অপরের ভিন্নতাকে সম্মান করে শক্তিশালী দল এবং সম্পর্ক তৈরি করতে পারি।
পঞ্চমত, বইটি ব্যক্তিগত দায়িত্বের উপর জোর দেয়। কোভি বারবার উল্লেখ করেছেন যে আপনার জীবন আপনার হাতে, আপনি আপনার প্রতিক্রিয়ার স্রষ্টা। এই 'প্রোঅ্যাকটিভিটি'র বার্তা আজকের দিনেও অত্যন্ত শক্তিশালী, কারণ এটি মানুষকে নিজেদের পরিস্থিতির শিকার না হয়ে নিজেদের জীবনের নিয়ন্ত্রক হতে শেখায়। এই মানসিকতা মানুষকে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাহসী করে তোলে এবং সমস্যা সমাধানের জন্য অনুপ্রাণিত করে।
তবে, বইটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে যা আলোচনা করা দরকার। কিছু পাঠক মনে করেন, এর ভাষা মাঝে মাঝে কিছুটা একাডেমিক বা গুরুতর মনে হতে পারে। উদাহরণ এবং ব্যাখ্যাগুলো অনেকের কাছে পশ্চিমা কর্পোরেট সংস্কৃতির প্রতি বেশি ঝুঁকতে পারে। এছাড়াও, সাতটি অভ্যাসকে সম্পূর্ণরূপে আয়ত্ত করতে যথেষ্ট সময় এবং প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল সন্ধানকারীদের জন্য হতাশাজনক হতে পারে। কিন্তু এই "ধীর এবং স্থিতিশীল" পদ্ধতিই এর দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতার চাবিকাঠি।
সংক্ষেপে, "দ্য সেভেন হ্যাবিটস্ অব হাইলি ইফেকটিভ পিপল" একটি কালজয়ী বই, কারণ এটি মানুষের মৌলিক প্রয়োজন এবং শাশ্বত নীতিগুলোর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এর গভীর জ্ঞান, ব্যবহারিক কাঠামো এবং ব্যক্তিগত দায়িত্বের বার্তা এটিকে আজও বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষের জন্য একটি অপরিহার্য নির্দেশিকা করে রেখেছে। আপনি ব্যক্তিগত উন্নয়নে সহায়ক বই খুঁজলে, এটি একটি চমৎকার পছন্দ।
এই অভ্যাসগুলো বাস্তব জীবনে কীভাবে প্রয়োগ করবেন?
"দ্য সেভেন হ্যাবিটস্ অব হাইলি ইফেকটিভ পিপল" বইটির মূল শক্তি হলো এর ব্যবহারিক প্রয়োগের ক্ষমতা। অভ্যাসগুলো কেবল তত্ত্ব নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনে কাজ, সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত বৃদ্ধিতে কাজে লাগানোর জন্য কিছু শক্তিশালী সরঞ্জাম। এখানে কিছু উপায় দেওয়া হলো কিভাবে আপনি এই অভ্যাসগুলো আপনার জীবনে প্রয়োগ করতে পারেন:
প্রতিদিন 'প্রোঅ্যাকটিভ' হওয়ার চর্চা করুন:
- নিজেকে প্রশ্ন করুন: "আমি কি এই পরিস্থিতির জন্য অন্যকে দোষ দিচ্ছি, নাকি আমার নিজের প্রতিক্রিয়ার দায়িত্ব নিচ্ছি?"
- প্রভাবের বৃত্তে মনোযোগ দিন: প্রতিদিন এমন একটি কাজ চিহ্নিত করুন যা আপনার নিয়ন্ত্রণে আছে এবং যা আপনি পরিবর্তন করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার বস আপনাকে বিরক্ত করে, তবে তার আচরণ পরিবর্তন করার চেষ্টা না করে আপনি কিভাবে তার প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখাবেন তা বেছে নিন।
- সক্রিয় ভাষা ব্যবহার করুন: "আমি পারবো না" এর বদলে বলুন "আমি কী করতে পারি দেখি"। "আমাকে এটা করতে হবে" এর বদলে বলুন "আমি এটা করতে বেছে নিচ্ছি"।
'শেষের কথা মাথায় রেখে শুরু করুন', আপনার ব্যক্তিগত মিশন স্টেটমেন্ট তৈরি করুন:
- আপনার মূল্যবোধ লিখুন: আপনার জীবনে কী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ? আপনার জীবনের মূল উদ্দেশ্য কী? আপনি যখন মারা যাবেন, তখন আপনি কিভাবে স্মরণীয় হতে চান?
- একটি ব্যক্তিগত বা পারিবারিক মিশন স্টেটমেন্ট তৈরি করুন: এটি একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি যা আপনার নীতি, মূল্যবোধ এবং দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যগুলোকে সংজ্ঞায়িত করে। এটিকে দৃশ্যমান রাখুন এবং নিয়মিত পড়ুন।
- প্রতিটি কাজ শুরুর আগে চিন্তা করুন: আপনি যে কাজটি করতে যাচ্ছেন, তা কি আপনার মূল লক্ষ্য বা মিশন স্টেটমেন্টের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ? যদি না হয়, তবে এটি করা কতটা জরুরি?
'গুরুত্বপূর্ণ কাজ আগে করুন', আপনার সময়কে গুরুত্ব অনুযায়ী সাজান:
- সময় ব্যবস্থাপনা ম্যাট্রিক্স ব্যবহার করুন: আপনার কাজগুলোকে 'জরুরি/গুরুত্বপূর্ণ' এর চারটি চতুর্ভুজে ভাগ করুন।
- ২ নং চতুর্ভুজে ফোকাস করুন: আপনার বেশিরভাগ সময় পরিকল্পনা, সম্পর্ক তৈরি, নতুন দক্ষতা অর্জন এবং নিজেকে নবীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু জরুরি নয় এমন কাজগুলোতে ব্যয় করার চেষ্টা করুন।
- 'না' বলতে শিখুন: এমন অনুরোধ বা কাজ প্রত্যাখ্যান করুন যা আপনার ২ নং চতুর্ভুজের লক্ষ্যগুলোর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এটি
নিজের জন্য সময় ও সম্পদ বরাদ্দ করার গুরুত্ববোঝায়।
'জিতুন-জিতুন' মানসিকতা গড়ে তুলুন:
- বিতর্কে তৃতীয় বিকল্প খুঁজুন: যখন কারো সাথে মতবিরোধ হয়, তখন কেবল নিজের বা অন্যের জয় নয়, বরং এমন একটি সমাধান খুঁজুন যা উভয় পক্ষকেই সন্তুষ্ট করে।
- পারস্পরিক সুবিধার কথা ভাবুন: যেকোনো চুক্তি বা সম্পর্কের ক্ষেত্রে, কেবল নিজের সুবিধা না দেখে অন্য পক্ষও কিভাবে লাভবান হতে পারে তা বিবেচনা করুন।
- আস্থার সম্পর্ক তৈরি করুন: মানুষের সাথে এমনভাবে আচরণ করুন যাতে তারা আপনাকে বিশ্বাস করতে পারে।
'আগে বুঝুন, তারপর বোঝান', একজন সহানুভূতিশীল শ্রোতা হন:
- অন্যের কথা মন দিয়ে শুনুন: যখন কেউ কথা বলে, তখন উত্তর দেওয়ার চিন্তা না করে তাদের কথা পুরোপুরি বোঝার চেষ্টা করুন। তাদের অনুভূতি এবং দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করুন।
- প্রশ্ন করুন: "আপনি কি বোঝাতে চাইছেন?" বা "আমি কি ঠিক বুঝলাম যে…" এর মতো প্রশ্ন করে নিশ্চিত হন যে আপনি সঠিক তথ্য পেয়েছেন।
- সহানুভূতি দেখান: অন্যের জুতোয় পা গলিয়ে তাদের পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করুন। যখন আপনি কাউকে বোঝেন, তখন তারা আপনাকে বিশ্বাস করবে।
'সমন্বিত উদ্যোগ নিন', ভিন্নতাকে সুযোগ হিসেবে দেখুন:
- দলগত কাজে সক্রিয় হন: যখন আপনি একটি দলের অংশ হন, তখন ভিন্ন মতামত এবং ধারণাগুলোকে স্বাগত জানান। বিশ্বাস করুন যে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে উন্নত সমাধান পাওয়া সম্ভব।
- সৃজনশীল হোন: সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন এবং উদ্ভাবনী উপায় খুঁজতে প্রস্তুত থাকুন।
- অন্যের শক্তিকে কাজে লাগান: প্রতিটি ব্যক্তির স্বতন্ত্র শক্তিকে চিনুন এবং সেগুলোকে একত্রিত করে একটি শক্তিশালী ফলাফল তৈরি করুন।
'নিজেকে নতুন করে ধার দিন', নিয়মিত আত্ম-নবীকরণের চর্চা করুন:
- চারটি মাত্রায় সময় দিন: প্রতিদিন বা সাপ্তাহিক ভিত্তিতে আপনার শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক এবং সামাজিক-আবেগিক মাত্রাগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য সময় বরাদ্দ করুন।
- শারীরিক: ব্যায়াম করুন, পুষ্টিকর খাবার খান, পর্যাপ্ত ঘুমান।
- মানসিক: বই পড়ুন, নতুন কিছু শিখুন, জার্নাল লিখুন।
- আধ্যাত্মিক: মেডিটেশন করুন, প্রকৃতির সাথে সময় কাটান, আপনার বিশ্বাস বা মূল্যবোধ নিয়ে চিন্তা করুন।
- সামাজিক-আবেগিক: প্রিয়জনের সাথে সময় কাটান, অন্যের সেবা করুন, সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিন।
- ব্যস্ততার মধ্যেও সময় বের করুন: কাঠুরে গল্পের মতো, নিজেকে ধার দেওয়ার জন্য সময় না থাকলে আপনার কার্যকারিতা কমে যাবে। এটি
শেখার উপর জোর দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- চারটি মাত্রায় সময় দিন: প্রতিদিন বা সাপ্তাহিক ভিত্তিতে আপনার শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক এবং সামাজিক-আবেগিক মাত্রাগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য সময় বরাদ্দ করুন।
এই অভ্যাসগুলো প্রয়োগ করা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা রাতারাতি ঘটে না। কিন্তু নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে আপনি আপনার জীবনকে আরও কার্যকর, ভারসাম্যপূর্ণ এবং ফলপ্রসূ করে তুলতে পারেন। আপনি যদি একই ধরনের আরও বই খুঁজে থাকেন যা আপনার জীবনকে বদলে দেবে, তবে কোভি-র এই বইয়ের প্রভাব অনেক গভীরে।
দ্য সেভেন হ্যাবিটস্ নিয়ে সাধারণ সমালোচনা
স্টিফেন কোভি-র "দ্য সেভেন হ্যাবিটস্ অব হাইলি ইফেকটিভ পিপল" একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী বই হলেও, এটি কিছু সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। এই সমালোচনাগুলো বইটির দুর্বলতা বা সীমাবদ্ধতা নির্দেশ করে না, বরং এর ধারণাগুলোর গভীরতা এবং প্রয়োগের জটিলতাকে তুলে ধরে।
- অতিরিক্ত জটিল বা একাডেমিক ভাষা: কিছু পাঠক মনে করেন, বইটির ভাষা কিছুটা জটিল এবং তত্ত্বীয়। কোভি প্রায়শই বিশেষ পরিভাষা (যেমন, প্যারাডাইম শিফট, প্র্যাকটিভিটি, সিনার্জি) ব্যবহার করেছেন, যা সাধারণ পাঠকের কাছে প্রথমবার কিছুটা কঠিন মনে হতে পারে। যদিও এই পরিভাষাগুলো বইয়ের ধারণাকে স্পষ্ট করে, তবে সহজবোধ্যতা কিছু পাঠকের কাছে বাধা হতে পারে।
- দীর্ঘ এবং বিশদ বর্ণনা: বইটি বেশ দীর্ঘ এবং প্রতিটি অভ্যাসের বিস্তারিত ব্যাখ্যা এবং উদাহরণ রয়েছে। কিছু পাঠক মনে করেন, বইটি খুব বেশি বিশদ এবং সংক্ষেপে মূল বার্তাটি বোঝা কঠিন। এই দৈর্ঘ্যের কারণে অনেকে বইটি শেষ করতে বা এর সমস্ত ধারণা পুরোপুরি আত্মস্থ করতে হিমশিম খান।
- পশ্চিমা কর্পোরেট সংস্কৃতির প্রতি পক্ষপাত: সমালোচকরা যুক্তি দেখান যে, বইটির উদাহরণ এবং প্রেক্ষাপট বেশিরভাগই পশ্চিমা কর্পোরেট সংস্কৃতি থেকে নেওয়া হয়েছে। যদিও কোভি নীতিগুলোকে সার্বজনীন বলে দাবি করেন, তবে এর প্রয়োগের ধরন এবং কিছু দৃষ্টান্ত অন্য সংস্কৃতি বা প্রেক্ষাপটের মানুষের কাছে ততটা প্রাসঙ্গিক নাও মনে হতে পারে।
- বাস্তব প্রয়োগের চ্যালেঞ্জ: অভ্যাসগুলো শক্তিশালী হলেও, এগুলোকে দৈনন্দিন জীবনে সফলভাবে প্রয়োগ করা সহজ নয়। বিশেষ করে, ১, ২, এবং ৩ নম্বর অভ্যাসগুলো (প্রোঅ্যাকটিভিটি, শেষ মাথায় রেখে শুরু করা, অগ্রাধিকার দেওয়া) আয়ত্ত করতে যথেষ্ট আত্ম-শৃঙ্খলা এবং মানসিক কাঠিন্য প্রয়োজন। অনেকে এই অভ্যাসগুলো শুরু করলেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হন।
- প্রায়শই 'সাধারণ জ্ঞান' মনে হওয়া: কিছু পাঠক অভিযোগ করেন যে বইটির অনেক ধারণা, বিশেষ করে প্রোঅ্যাকটিভিটি বা অগ্রাধিকার দেওয়ার মতো বিষয়গুলো, সাধারণ জ্ঞান মাত্র। তবে কোভি-র যুক্তি হলো, এই ধারণাগুলো সাধারণ জ্ঞান হলেও, সাধারণ অনুশীলন নয়। অর্থাৎ, আমরা জানি কী করতে হবে, কিন্তু করি না। বইটি এই সাধারণ জ্ঞানকে একটি কার্যকরী কাঠামোর মধ্যে নিয়ে এসে প্রয়োগের উপর জোর দেয়।
- দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের জন্য সময় প্রয়োজন: এই বইয়ের অভ্যাসগুলো রাতারাতি পরিবর্তন আনে না। এগুলো গভীর চরিত্রগত পরিবর্তন এবং অভ্যাসের পুনর্গঠনের উপর জোর দেয়, যার জন্য দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টা এবং ধৈর্যের প্রয়োজন। তাৎক্ষণিক ফলাফলের আশায় থাকা পাঠকরা হতাশ হতে পারেন।
- আর্থিক দিক সামান্য অনুল্লেখিত: যদিও কোভি-র অভ্যাসগুলো পরোক্ষভাবে আর্থিক সাফল্যের দিকে পরিচালিত করতে পারে, তবে বইটি সরাসরি আর্থিক ব্যবস্থাপনা বা বিনিয়োগের কৌশল নিয়ে খুব বেশি আলোচনা করে না। যারা সুনির্দিষ্ট আর্থিক পরামর্শ খুঁজছেন, তারা এই দিক থেকে বইটি কিছুটা অসম্পূর্ণ মনে করতে পারেন। তবে, অন্য অনেক বই এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়, যেমন
নিজের আর্থিক ভবিষ্যৎ তৈরিকরার বিভিন্ন উপায়।
এই সমালোচনাগুলো সত্ত্বেও, "দ্য সেভেন হ্যাবিটস্" এর ইতিবাচক প্রভাব এবং মানুষের জীবনে এর ব্যাপক মূল্য অনস্বীকার্য। এর মূল বার্তা এবং নীতিগুলো এতটাই শক্তিশালী যে এটি সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠে একটি ক্লাসিক হিসেবে নিজেদের স্থান ধরে রেখেছে। বইটি পাঠকদেরকে নিজেদের সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে সত্যিকারের কার্যকারিতা অর্জনের জন্য একটি শক্তিশালী টুলকিট দেয়।
এই বই থেকে কারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন?
"দ্য সেভেন হ্যাবিটস্ অব হাইলি ইফেকটিভ পিপল" বইটি একটি বিস্তৃত পাঠকগোষ্ঠীর জন্য লেখা হয়েছে, কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণীর মানুষ এই বই থেকে বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারেন।
- নেতৃত্বের ভূমিকায় যারা আছেন: ম্যানেজার, সুপারভাইজার, টিম লিডার, বা যেকোনো ধরনের সাংগঠনিক নেতা, এই বই থেকে নিজেদের নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্দৃষ্টি পাবেন। অভ্যাসগুলো (বিশেষত ৪, ৫, ৬) শেখায় কিভাবে কার্যকরভাবে দল পরিচালনা করতে হয়, পারস্পরিক আস্থা তৈরি করতে হয় এবং সম্মিলিতভাবে উচ্চতর ফলাফল অর্জন করতে হয়।
- উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়িক পেশাজীবীরা: যারা নিজেদের ব্যবসা শুরু করতে চান বা বর্তমান ব্যবসায়িক জীবনে আরও কার্যকর হতে চান, তাদের জন্য এই বইটি একটি অমূল্য সম্পদ। প্রোঅ্যাকটিভিটি, লক্ষ্য নির্ধারণ, অগ্রাধিকার দেওয়া এবং জিতুন-জিতুন সম্পর্ক তৈরি করার মতো অভ্যাসগুলো ব্যবসায়িক সফলতার জন্য অপরিহার্য। এটি
নিজের আর্থিক ভবিষ্যৎ তৈরিএবং ব্যবসার কৌশল নির্ধারণে সহায়তা করে। - শিক্ষার্থী এবং তরুণ পেশাজীবীরা: যারা সদ্য কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন বা উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন, তারা নিজেদের সময় ব্যবস্থাপনা, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ বাড়াতে এই বই থেকে প্রচুর সাহায্য পাবেন। এই অভ্যাসগুলো তাদের কর্মজীবনের শুরু থেকেই একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
- পিতামাতা এবং পারিবারিক ব্যক্তিরা: বইটির নীতিগুলো কেবল কর্মক্ষেত্র নয়, পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। সহানুভূতিশীল যোগাযোগ, জিতুন-জিতুন মানসিকতা এবং নিজেদের নবীকরণ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আরও গভীর এবং সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
- যেকোনো ব্যক্তি যারা ব্যক্তিগত উন্নতি চান: যারা নিজেদের জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিতে চান, আরও বেশি উত্পাদনশীল হতে চান, বা নিজেদের সম্পর্কগুলোকে উন্নত করতে চান, এই বইটি তাদের জন্য। এটি ব্যক্তিগত দায়িত্ব এবং আত্ম-সচেতনতার উপর জোর দিয়ে একটি সামগ্রিক ব্যক্তিগত বৃদ্ধির পথ দেখায়।
- যারা মানসিক চাপ অনুভব করেন বা ভারসাম্যহীন জীবনযাপন করেন: অভ্যাস ৭ ("নিজেকে নতুন করে ধার দিন") বিশেষত এই শ্রেণীর মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক এবং সামাজিক-আবেগিক সুস্থতার উপর জোর দিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনধারা তৈরি করতে সাহায্য করে।
মূলত, যে কেউ নিজের জীবনকে আরও উদ্দেশ্যপূর্ণ, ফলপ্রসূ এবং সুখী করতে চান, তারা "দ্য সেভেন হ্যাবিটস্ অব হাইলি ইফেকটিভ পিপল" বইটি থেকে গভীর জ্ঞান এবং ব্যবহারিক নির্দেশনা পাবেন। এটি কেবল একটি বই নয়, বরং ব্যক্তিগত রূপান্তরের একটি যাত্রা।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. "দ্য সেভেন হ্যাবিটস্ অব হাইলি ইফেকটিভ পিপল" বইটির মূল বার্তা কী?
বইটির মূল বার্তা হলো, দীর্ঘমেয়াদী ব্যক্তিগত এবং পেশাগত কার্যকারিতা অর্জনের জন্য বাহ্যিক কৌশল বা দ্রুত সাফল্যের পেছনে না ছুটে, বরং গভীর চরিত্রগত নীতিগুলো (যেমন সততা, দায়িত্বশীলতা) মেনে চলা এবং সাতটি মৌলিক অভ্যাস আয়ত্ত করা। এটি ব্যক্তি এবং সম্পর্কের উপর দায়িত্বশীলতা ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উপর জোর দেয়।
২. এই বই কি সবার জন্য উপযুক্ত?
হ্যাঁ, এই বইটি কার্যত সবার জন্য উপযুক্ত, যারা নিজেদের জীবন, কাজ এবং সম্পর্ককে উন্নত করতে চান। এটি শিক্ষার্থী, পেশাজীবী, নেতা, পিতামাতা, এবং ব্যক্তিগত উন্নতিতে আগ্রহী যে কারো জন্য কার্যকর। তবে, যারা দ্রুত সমাধান চান তাদের জন্য এটি কিছুটা ধীরগতির এবং গভীর মনে হতে পারে।
৩. বইটির সাতটি অভ্যাস কি কি?
সাতটি অভ্যাস হলো: ১. প্রতিক্রিয়াশীল না হয়ে সক্রিয় হোন, ২. শেষের কথা মাথায় রেখে শুরু করুন, ৩. গুরুত্বপূর্ণ কাজ আগে করুন, ৪. জিতুন-জিতুন মানসিকতা রাখুন, ৫. আগে বুঝুন, তারপর বোঝান, ৬. সমন্বিত উদ্যোগ নিন, এবং ৭. নিজেকে নতুন করে ধার দিন।
৪. এই অভ্যাসগুলো আয়ত্ত করতে কত সময় লাগে?
এই অভ্যাসগুলো আয়ত্ত করতে রাতারাতি পরিবর্তন আসে না, বরং এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। কোভি বিশ্বাস করতেন, একটি অভ্যাস পরিবর্তন করতে বা নতুন অভ্যাস গড়ে তুলতে ২১ থেকে ৯০ দিনের নিয়মিত চর্চা প্রয়োজন। তবে, এই সাতটি অভ্যাস জীবনে পুরোপুরি আত্মস্থ করতে সারা জীবন ধরে কাজ করতে হতে পারে।
৫. "প্রোঅ্যাকটিভিটি" বলতে কী বোঝায়?
প্রোঅ্যাকটিভিটি বলতে বোঝায়, আপনার জীবনের দায়িত্ব নিজে নেওয়া এবং বাইরের পরিস্থিতি বা আবেগের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হয়ে নিজের মূল্যবোধ ও নীতি দ্বারা পরিচালিত হওয়া। এর মানে হলো, আপনি আপনার পরিস্থিতির সৃষ্টি না করলেও, আপনার প্রতিক্রিয়ার স্রষ্টা আপনি নিজেই।
৬. "জিতুন-জিতুন" মানসিকতা কেন জরুরি?
"জিতুন-জিতুন" মানসিকতা এই জন্য জরুরি কারণ এটি পারস্পরিক আস্থা এবং শ্রদ্ধার উপর ভিত্তি করে দীর্ঘস্থায়ী এবং ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে। যখন উভয় পক্ষই একটি চুক্তিতে লাভবান হয়, তখন সহযোগিতা বাড়ে এবং ভবিষ্যতের মিথস্ক্রিয়া আরও ফলপ্রসূ হয়।
৭. আমি বইটি কোথায় কিনতে পাবো?
আপনি "দ্য সেভেন হ্যাবিটস্ অব হাইলি ইফেকটিভ পিপল" বইটি Boi Rath (boirath.com) ওয়েবসাইট থেকে কিনতে পারবেন। Boi Rath-এ এই বইটির বিভিন্ন সংস্করণ এবং অন্যান্য অনেক বই পাওয়া যায়।
৮. বইটি পড়ে কি আমি আরও সুখী হব?
বইটি সরাসরি সুখের প্রতিশ্রুতি দেয় না, তবে এটি আপনাকে আরও কার্যকর, উদ্দেশ্যপূর্ণ এবং ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের পথ দেখায়। এই অভ্যাসগুলো আয়ত্ত করার মাধ্যমে আপনি নিজের উপর আরও নিয়ন্ত্রণ পাবেন, সম্পর্ক উন্নত করবেন এবং ব্যক্তিগত শান্তি অনুভব করবেন, যা পরোক্ষভাবে আপনাকে আরও সুখী করতে পারে।
আমার শেষ কথা
"দ্য সেভেন হ্যাবিটস্ অব হাইলি ইফেকটিভ পিপল" বইটি কেবল একটি পাঠ্যপুস্তক নয়, এটি ব্যক্তিগত পরিবর্তন এবং নেতৃত্বের একটি কার্যকরী নির্দেশিকা। স্টিফেন কোভি-র এই কাজ আপনাকে আপনার অভ্যন্তরীণ শক্তি খুঁজে বের করতে, উদ্দেশ্য নিয়ে জীবনযাপন করতে এবং অন্যের সাথে অর্থবহ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। এই সাতটি অভ্যাসকে নিজের জীবনে অনুশীলন করা একটি ধারাবাহিক যাত্রা, যা আপনাকে আরও ফলপ্রসূ এবং সন্তোষজনক একটি জীবনের দিকে নিয়ে যাবে। এটি সেই ধরনের একটি বই যা আপনি বারবার পড়বেন এবং প্রতিবারই নতুন কিছু শিখবেন।