Wealth, Leadership & Career

দ্য সাইকোলজি অব মানি বইয়ের সারসংক্ষেপ ও রিভিউ

দ্য সাইকোলজি অব মানি বইয়ের সারসংক্ষেপ ও রিভিউ

মর্গান হাউজেলের “দ্য সাইকোলজি অব মানি: টাইমলেস লেসনস অন ওয়েলথ, গ্রিড, অ্যান্ড হ্যাপিনেস” বইটি প্রচলিত আর্থিক পরামর্শের চেয়ে ভিন্ন একটি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করে। এটি কেবল সংখ্যা বা ফর্মুলার পরিবর্তে অর্থের সাথে মানুষের মানসিক সম্পর্ক, আচরণগত প্রবণতা এবং আবেগ নিয়ে কথা বলে। এই বইটি আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের মনস্তত্ত্বের গভীর প্রভাব ব্যাখ্যা করে।

বইটি আর্থিক সাফল্যের জন্য আপনার ব্যক্তিগত ইতিহাস, অনন্য মানসিকতা এবং অভিজ্ঞতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা তুলে ধরে। এটি বিনিয়োগ, সঞ্চয় এবং ব্যয় করার পেছনে আমাদের মানসিক যুক্তিগুলো কী, তা বুঝতে সাহায্য করে।

বইয়ের কিছু মূল বার্তা:

  • আর্থিক আচরণ গুরুত্বপূর্ণ: আপনার বুদ্ধিমত্তা বা জ্ঞান নয়, অর্থের ক্ষেত্রে আপনার আচরণই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে।
  • যৌগিক বৃদ্ধি অসাধারণ: ছোট ছোট সঞ্চয় দীর্ঘ মেয়াদে অবিশ্বাস্য ফল দিতে পারে।
  • নিজের খেলা বুঝুন: অন্যদের বিনিয়োগ দেখে নিজের সিদ্ধান্ত নেবেন না, কারণ প্রত্যেকের পরিস্থিতি ভিন্ন।
  • যথেষ্ট বলে জানুন: লোভ নিয়ন্ত্রণ করা এবং “যথেষ্ট” কী তা বোঝা মানসিক শান্তির জন্য জরুরি।

“দ্য সাইকোলজি অব মানি” কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

“দ্য সাইকোলজি অব মানি” হলো একটি আর্থিক পরামর্শমূলক বই যা ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকটের পর লেখা হয়েছে। লেখক মরগান হাউজেল এই বইতে দেখিয়েছেন যে আর্থিক সিদ্ধান্তগুলো সম্পূর্ণরূপে যুক্তিপূর্ণ হয় না, বরং প্রায়শই আবেগ, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং সামাজিক প্রভাব দ্বারা চালিত হয়। বইটি যুক্তি দেয় যে, অর্থ ব্যবস্থাপনার বিজ্ঞানগত দিকগুলো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো এর মনস্তাত্ত্বিক দিক। কেন কিছু মানুষ ধনী হয় এবং কিছু মানুষ গরিব হয়, তার পেছনের কারণগুলো নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে এই বইটি। এটি আপনাকে শেখায় কিভাবে একটি সুস্থ আর্থিক মানসিকতা তৈরি করতে হয় যা দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ গঠনে সাহায্য করবে।

বইটির মূল শিক্ষা ও ধারণাগুলো

এই বইতে মরগান হাউজেল কিছু মৌলিক ধারণা তুলে ধরেছেন যা অর্থের সাথে আমাদের সম্পর্ককে নতুনভাবে দেখতে শেখায়। এই শিক্ষাগুলো কেবল বিনিয়োগকারীদের জন্য নয়, বরং প্রত্যেকের জন্য প্রযোজ্য যারা নিজেদের আর্থিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন হতে চান।

যৌগিক বৃদ্ধি ও এর ক্ষমতা

বইটির একটি প্রধান শিক্ষা হলো যৌগিক বৃদ্ধির (compounding) ক্ষমতা। হাউজেল দেখিয়েছেন কিভাবে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে ছোট ছোট বিনিয়োগও বিশাল সম্পদে পরিণত হতে পারে। এটি কেবল উচ্চ হারে রিটার্ন পাওয়ার বিষয় নয়, বরং ধৈর্য সহকারে এবং ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ বজায় রাখার বিষয়। ওয়ারেন বাফেটের উদাহরণ টেনে হাউজেল ব্যাখ্যা করেন যে, তার বেশিরভাগ সম্পদ তৈরি হয়েছে যৌবনে বিনিয়োগ শুরু করা এবং দীর্ঘকাল ধরে তা বজায় রাখার মাধ্যমে, কেবল অসাধারণ বিনিয়োগ কৌশল দিয়ে নয়। নিয়মিতভাবে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করে দীর্ঘ মেয়াদের জন্য রেখে দেওয়া কত শক্তিশালী হতে পারে, তা এই অধ্যায়ে দেখানো হয়।

ভাগ্য ও ঝুঁকি বোঝা

হাউজেল জোর দেন যে, আর্থিক সাফল্যের পেছনে কেবল কঠোর পরিশ্রম বা প্রতিভা থাকে না, বরং ভাগ্য এবং ঝুঁকিও বড় ভূমিকা পালন করে। তিনি পরামর্শ দেন যে, আমাদের সাফল্যের গল্পগুলো যতটা আমরা নিজেদের কৃতিত্ব বলে মনে করি, তার চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলে ভাগ্য। একই সাথে, ব্যর্থতার পেছনেও শুধু ভুল সিদ্ধান্ত থাকে না, বরং থাকে অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি। এটি আমাদের মধ্যে বিনয়বোধ তৈরি করে এবং অন্যদের সাফল্য বা ব্যর্থতাকে আরও বাস্তবসম্মতভাবে দেখতে শেখায়। নিজের আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ভাগ্যের উপাদানটি বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

যথেষ্ট বলে জানা

লোভ এবং “কখনও যথেষ্ট নয়” এর মানসিকতা আর্থিক পতনের অন্যতম কারণ। হাউজেল এই ধারণাটি ভেঙে দিয়েছেন যে, আপনার কাছে যত বেশি অর্থ থাকবে, আপনি তত বেশি সুখী হবেন। তিনি “যথেষ্ট বলে জানা” এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের নেশায় মানুষ প্রায়শই অনৈতিক কাজ করে বা মাত্রাতিরিক্ত ঝুঁকি নেয়, যা শেষ পর্যন্ত তাদের সবকিছু কেড়ে নিতে পারে। নিজের জন্য একটি সীমা নির্ধারণ করা এবং সেই সীমার মধ্যে সন্তুষ্ট থাকা আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং মানসিক শান্তির জন্য অপরিহার্য। এই দর্শন অনুসরণ করলে মানুষ অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নেওয়া থেকে বিরত থাকে এবং অর্থকে তাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে দেখে না।

স্বাধীনতা হলো আসল সম্পদ

অনেকে মনে করেন অনেক টাকা মানে বিলাসবহুল জীবন। কিন্তু হাউজেলের মতে, আসল সম্পদ হলো আর্থিক স্বাধীনতা। এর মানে হলো আপনার সময় এবং পছন্দের উপর আপনার নিয়ন্ত্রণ থাকা। সকালে উঠে এমন কাজ করতে পারা যা আপনি ভালোবাসেন, অথবা কাজ না করার স্বাধীনতা থাকা, এটিই আসল মূল্য। কোটি কোটি টাকা থাকা সত্ত্বেও যদি আপনাকে এমন জীবনযাপন করতে হয় যা আপনি অপছন্দ করেন, তাহলে সেই অর্থের মূল্য কম। স্বাধীনতার এই ধারণাটি প্রচলিত সম্পদ এবং সুখের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে। আমাদের একটি নির্দিষ্ট আর্থিক নীতি বজায় রাখার মাধ্যমেও এই স্বাধীনতা পেতে পারেন।

আপনার নিজের খেলা বোঝা

বইটি ব্যাখ্যা করে যে প্রত্যেকে অর্থের ক্ষেত্রে একটি ভিন্ন খেলা খেলে। একজন তরুণ বিনিয়োগকারীর লক্ষ্য, সময়সীমা এবং ঝুঁকি সহনশীলতা একজন অবসরপ্রাপ্ত বিনিয়োগকারীর থেকে আলাদা হবে। তাই, অন্যদের বিনিয়োগ কৌশল অন্ধভাবে অনুসরণ করা ভুল। আপনার নিজের পরিস্থিতি, লক্ষ্য এবং মানসিকতা অনুযায়ী আর্থিক পরিকল্পনা করা উচিত। বাজারের খবর বা অন্যদের সাফল্যের গল্প দেখে প্রভাবিত না হয়ে নিজের জন্য সেরা পথটি খুঁজে বের করা জরুরি। এটি আপনাকে এমন ঝুঁকি নেওয়া থেকে বিরত রাখবে যা আপনার জন্য উপযুক্ত নয়।

সঞ্চয় এবং ব্যয় সম্পর্কে মানসিকতা

হাউজেল সঞ্চয়কে শুধু ভবিষ্যতের জন্য অর্থ জমিয়ে রাখা হিসাবে দেখেন না। তার মতে, সঞ্চয় হলো আপনার মানসিক শক্তিকে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবহার করার ক্ষমতা। তিনি বলেন, সঞ্চয়ের জন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণ থাকার প্রয়োজন নেই। শুধু সঞ্চয় করার জন্য সঞ্চয় করাও একটি ভালো অভ্যাস। একইভাবে, ব্যয় করার ক্ষেত্রেও আপনার মানসিকতা কেমন, তা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে সামাজিক অবস্থান দেখানোর জন্য ব্যয় করে, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক পরিকল্পনা নষ্ট করে দেয়। একটি সুস্থ সঞ্চয় অভ্যাস গড়ে তোলা এবং বিচক্ষণভাবে ব্যয় করা জীবনের সামগ্রিক আর্থিক কাঠামোকে মজবুত করে। একটি কার্যকর আর্থিক জীবন গড়ে তুলতে আর্থিক সাক্ষরতার গুরুত্ব সম্পর্কে জানুন।

“দ্য সাইকোলজি অব মানি” বইটি কেন পড়বেন: একটি বিশ্লেষণ

“দ্য সাইকোলজি অব মানি” বইটি পড়ার বেশ কিছু কারণ আছে। এই বই আপনাকে কেবল কিছু আর্থিক কৌশল শেখাবে না, বরং অর্থের প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গিকেই বদলে দেবে।

প্রথমত, বইটি অত্যন্ত সহজবোধ্য ভাষায় লেখা। লেখক জটিল অর্থনৈতিক ধারণাগুলোকে বাস্তব জীবনের গল্প এবং উদাহরণ দিয়ে সহজ করে তুলে ধরেছেন। ফলে অর্থনীতি বা বিনিয়োগ সম্পর্কে যাদের তেমন ধারণা নেই, তারাও বইটি সহজে বুঝতে পারবেন। এটি কোনো একাডেমিক গবেষণাপত্রের মতো নয়, বরং একজন জ্ঞানী বন্ধুর সাথে আলোচনার মতো মনে হয়।

দ্বিতীয়ত, বইটি আপনাকে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সাফল্য অর্জনের জন্য একটি শক্তিশালী মানসিক কাঠামো তৈরি করতে সাহায্য করবে। এটি বাজারের ওঠানামা বা অর্থনৈতিক সংকটের মুখেও কিভাবে শান্ত থাকা যায়, তা শেখায়। অনেক সময় মানুষ অস্থির বাজারে তাড়াহুড়ো করে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। এই বইটি আপনাকে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে যুক্তিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে শেখাবে, যা আপনার দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক পরিকল্পনাকে সফল করবে।

তৃতীয়ত, বইটি আপনাকে আর্থিক স্বাধীনতা এবং সুখের প্রকৃত অর্থ কী তা বুঝতে সাহায্য করবে। বেশিরভাগ মানুষ মনে করে অনেক টাকা থাকলেই সুখী হওয়া যায়। কিন্তু হাউজেল দেখিয়েছেন যে, স্বাধীনতা, সময় এবং সম্পর্ক টাকার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই বইটি পড়ার পর আপনি অর্থের পেছনে ছুটে চলার পরিবর্তে আপনার জীবনকে কীভাবে আরও অর্থবহ করা যায়, সেদিকে মনোযোগ দিতে পারবেন।

চতুর্থত, এটি আপনাকে ব্যক্তিগত আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় অন্যদের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে সাহায্য করবে। সামাজিক চাপ, বিজ্ঞাপন বা বন্ধুদের জীবনযাপন দেখে আমরা প্রায়শই ভুল আর্থিক সিদ্ধান্ত নিই। এই বই আপনাকে আপনার নিজের মূল্যবোধ এবং লক্ষ্য অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করবে, যা আপনার জন্য সেরা হবে।

সংক্ষেপে, এই বইটি পড়লে আপনি অর্থ সম্পর্কে আরও বাস্তববাদী এবং ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করতে পারবেন, যা আপনাকে কেবল সম্পদ তৈরিতে নয়, বরং একটি সুখী এবং সন্তুষ্ট জীবনযাপন করতেও সাহায্য করবে।

বইটির কিছু সীমাবদ্ধতা

“দ্য সাইকোলজি অব মানি” বইটি অনেক মূল্যবান শিক্ষা দিলেও এর কিছু সীমাবদ্ধতা আছে যা একজন পাঠকের জানা উচিত।

প্রথমত, বইটি প্রধানত আর্থিক মনোবিজ্ঞানের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। এটি আপনাকে ঠিক কী ধরনের স্টক কিনতে হবে, কোথায় বিনিয়োগ করতে হবে, বা কিভাবে একটি বাজেট তৈরি করতে হবে তার বিস্তারিত নির্দেশিকা দেয় না। যারা একটি হাতে-কলমে বিনিয়োগ গাইড খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি যথেষ্ট নাও হতে পারে। এটি আর্থিক ব্যবস্থাপনার “কেন” এবং “কিভাবে চিন্তা করবেন” নিয়ে কথা বলে, “কী করবেন” নিয়ে নয়।

দ্বিতীয়ত, বইটিতে কিছু ধারণার পুনরাবৃত্তি দেখা যায়। কিছু অধ্যায়ে মূল বার্তাগুলো বিভিন্ন উপায়ে পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে, যা কিছু পাঠকের কাছে কিছুটা পুনরাবৃত্তিমূলক মনে হতে পারে। তবে, এটি একই ধারণাকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বোঝাতে সাহায্যও করে।

তৃতীয়ত, বইটি পশ্চিমা প্রেক্ষাপট এবং পুঁজিবাদী অর্থনীতির উপর ভিত্তি করে লেখা। যদিও এর মূল মনস্তাত্ত্বিক নীতিগুলো সর্বজনীন, কিছু উদাহরণ বা সাংস্কৃতিক প্রসঙ্গ বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের পাঠকদের জন্য সরাসরি প্রযোজ্য নাও হতে পারে। তবে, অর্থের প্রতি মানুষের মৌলিক মানসিকতা সব সংস্কৃতিতেই অনেক মিল রয়েছে।

চতুর্থত, বইটি মূলত ব্যক্তিগত বিনিয়োগ এবং সঞ্চয়ের উপর জোর দেয়। এটি বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা সামষ্টিক অর্থনীতির জটিল বিষয়গুলো নিয়ে গভীর আলোচনা করে না। তাই, যারা ম্যাক্রো-ইকোনমিক্স বা জটিল আর্থিক বাজারের কার্যকারিতা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি উপযুক্ত নাও হতে পারে।

এই সীমাবদ্ধতাগুলো সত্ত্বেও, “দ্য সাইকোলজি অব মানি” বইটি আর্থিক মনোবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে এবং অর্থের সাথে আমাদের সম্পর্ককে নতুনভাবে দেখার সুযোগ করে দেয়।

“রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড” বনাম “দ্য সাইকোলজি অব মানি”: কোন বইটি আগে পড়বেন?

“দ্য সাইকোলজি অব মানি” এবং রবার্ট কিয়োসাকির “রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড” দুটিই আর্থিক বইয়ের জগতে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে তাদের উদ্দেশ্য এবং শিক্ষার ধরনে পার্থক্য আছে। কোন বইটি আগে পড়বেন তা নির্ভর করে আপনি কী শিখতে চান তার উপর।

যদি আপনি আর্থিক সাক্ষরতার একদম প্রাথমিক স্তরে থাকেন এবং অর্থের মৌলিক নিয়মগুলো জানতে চান, তাহলে “রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড” দিয়ে শুরু করা ভালো হবে। এই বইটি আপনাকে সম্পদ (assets) এবং দায় (liabilities) এর মধ্যে পার্থক্য শেখাবে, ‘পে ইউরসেল্ফ ফার্স্ট’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেবে, এবং চাকরিতে কাজ করার বাইরেও কিভাবে অর্থ উপার্জন করা যায় তার একটি ধারণা দেবে। এটি আপনাকে আর্থিক স্বাধীনতা অর্জনের মৌলিক নীতি সম্পর্কে আগ্রহী করে তুলবে।

অন্যদিকে, যদি আপনার ইতিমধ্যে আর্থিক বিষয়গুলো সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা থাকে এবং আপনি আরও গভীর মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো বুঝতে চান, তাহলে “দ্য সাইকোলজি অব মানি” আপনার জন্য উপযুক্ত। এই বইটি কেবল অর্থ উপার্জন বা বিনিয়োগের কৌশল শেখায় না, বরং অর্থের প্রতি আমাদের আচরণগত প্রবণতা, ভুল ধারণা এবং আবেগগুলো নিয়ে আলোচনা করে। এটি আপনাকে শেখাবে কিভাবে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে আরও বিচক্ষণ আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়, এবং কিভাবে দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চিন্তা করতে হয়। যারা “রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড” পড়েছেন এবং এখন আরও গভীর অন্তর্দৃষ্টি খুঁজছেন, তাদের জন্য এই বইটি দারুণ পরিপূরক হতে পারে।

সংক্ষেপে, “রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড” হলো একটি দারুণ সূচনা বিন্দু যা আপনাকে আর্থিক বিশ্বের দরজা খুলে দেবে। আর “দ্য সাইকোলজি অব মানি” হলো সেই বইটি যা আপনাকে সেই জগতে টিকে থাকার জন্য একটি শক্তিশালী মানসিকতা তৈরি করতে সাহায্য করবে। আপনি চাইলে আমাদের ওয়েবসাইটে রিচ ড্যাড পুওর ড্যাডের একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ পড়তে পারেন। এই দুটি বই নিয়ে আরও বিস্তারিত তুলনা দেখতে পারেন এখানে

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

১. “দ্য সাইকোলজি অব মানি” বইটির লেখক কে?

এই বইটির লেখক হলেন মরগান হাউজেল। তিনি একজন স্বনামধন্য আর্থিক লেখক এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম দ্য কোলাবোরেটিভ ফান্ডের একজন অংশীদার।

২. বইটি কী বিনিয়োগের নির্দিষ্ট কৌশল শেখায়?

না, বইটি নির্দিষ্ট বিনিয়োগ কৌশল বা স্টক বাছাইয়ের টিপস দেয় না। এটি অর্থের সাথে মানুষের মানসিক সম্পর্ক, আচরণগত প্রবণতা এবং আবেগ নিয়ে আলোচনা করে, যা আপনাকে আরও ভালো আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

৩. বইটি কি কেবল বিনিয়োগকারীদের জন্য?

না, বইটি শুধু বিনিয়োগকারীদের জন্য নয়, বরং আর্থিক ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত যে কারও জন্য উপকারী। এতে সঞ্চয়, ব্যয়, ঝুঁকি গ্রহণ এবং মানসিকতা সম্পর্কিত শিক্ষা রয়েছে যা সকলের জন্য প্রযোজ্য।

৪. বইটিতে কি জটিল অর্থনৈতিক পরিভাষা ব্যবহার করা হয়েছে?

না, মরগান হাউজেল জটিল অর্থনৈতিক ধারণাগুলোকে সহজ এবং সাবলীল ভাষায়, বাস্তব জীবনের গল্প ও উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন। ফলে বইটি সকলের জন্য সহজপাঠ্য।

৫. বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বইটি কতটা কার্যকর?

বইটির মূল মনস্তাত্ত্বিক নীতিগুলো বিশ্বজনীন, যা সব সংস্কৃতিতেই প্রযোজ্য। যদিও কিছু উদাহরণ পশ্চিমা প্রেক্ষাপটের, অর্থের প্রতি মানুষের লোভ, ভয়, বা ধৈর্যের মতো মৌলিক আবেগগুলো বাংলাদেশেও একইভাবে কাজ করে।

৬. বইটি কোথায় কিনতে পাওয়া যাবে?

আপনি Boi Rath এর ওয়েবসাইট boirath.com থেকে “দ্য সাইকোলজি অব মানি” বইটি কিনতে পারবেন।

আমার চূড়ান্ত ভাবনা

“দ্য সাইকোলজি অব মানি” বইটি আর্থিক জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এটি কেবল আপনাকে অর্থ সম্পর্কে নতুন তথ্য দেবে না, বরং আপনার মানসিকতাকে এমনভাবে গড়ে তুলবে যা দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং মানসিক শান্তি অর্জনে অপরিহার্য। এটি পড়ে আপনি অর্থের পেছনে অন্ধভাবে ছুটে চলা ছেড়ে দিয়ে, আপনার নিজের জীবনে এর প্রকৃত মূল্য কী, তা বুঝতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *